নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অষ্টম দিন গেল বুধবার। এর মধ্যে সারাদেশে তারা সফর করছেন। জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে দেখা করছেন। তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে নেতৃবৃন্দ পথ সভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন।
বুয়েটে ছাত্রলীগের নেতাদের দ্বারা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে পদযাত্রা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এ সময় নেতারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রায়ডাঙ্গা গ্রামে মতবিনিময় করেন।
এছাড়া বিভিন্ন সমাবেশে এনসিপির নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অবশ্যই নির্বাচন চাই। তবে নির্বাচনের আগে জুলাই হত্যাকারীদের বিচার ও সংস্কার চাই। আগে বিচার ও সংস্কার। তারপর নির্বাচন।
শহীদ আবরার ফাহাদের দেখানো পথে রাজনীতি করছে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা শহীদ আবরার ফাহাদের উত্তরসূরি। তাঁর দেখানো ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা শহীদ আবরার ফাহাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি, আমরা শহীদ ইয়ামিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমরা স্পষ্ট বলেছি, শহীদ আবরার থেকে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ইয়ামিন পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, আধিপত্য-আগ্রাসনবিরোধী আশা-আকাঙ্ক্ষা, সেটি ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যাব।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিচার ও সংস্কার ছাড়া আমরা নির্বাচন মেনে নেব না। আগামীর বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী শক্তি ঠেকাতে লড়াই-সংগ্রাম চলবে। আমরা দিল্লির দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি। শহীদ আবরার আমাদের এই সাহস জুগিয়েছেন।’
কুষ্টিয়ার একটি রিসোর্টে সকালে অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির নেতারা। পরে তাদের গাড়িবহর কুষ্টিয়া শহর থেকে শহীদ আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছে। সেখানে আবরারের কবর জিয়ারত শেষে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন নেতারা।
কুমারখালী প্রতিনিধি জানান, আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের হাতে আবরার ফাহাদ হত্যা বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই নতুন করে শুরু হয়। সে পথ ধরেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, খুলনা বিভাগের সংগঠক নয়ন আহম্মেদ, শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর পর পদযাত্রা কুষ্টিয়া শহরে এসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এন এস রোডে সংক্ষিপ্ত পথসভা করে। সেখান থেকে পদযাত্রা মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
জেলার গাংনীতে সন্ধ্যায় এক পথসভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাইব্রিড নেতারা অন্যের ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে বিদেশে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। অন্যের সন্তানকে চামচা; নিজের ছেলেকে নেতা বানান।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘আপনারা কোনো মার্কা ও ব্যক্তির কাছে বিবেক বন্ধক দিয়েন না। যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে, তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনের সময় আমাদের দেশে এক শ্রেণির নেতা উৎপাদন হয়। ঢাকা থেকে বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে এলাকায় ঢুকে আগের রাতে ওসি, এসপি ও পোলিং এজেন্টদের কিনে নেন। তারা আপনাদের এক দিন টাকা দেন আর গোলামি করান পাঁচ বছর।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমাদের অনুরোধ– বাংলাদেশকে আর অযোগ্য নেতা ও গম চোরের হাতে তুলে দিয়েন না। রাস্তার টাকা মেরে যারা হজ করতে চান, তাদের হাতে তুলে দিয়েন না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘জনগণ পাশে থাকলে দিল্লি পালাতে হয় না; লন্ডন থাকতে হয় না। জনগণ সঙ্গে থাকলে বাংলাদেশেই স্থান হয়। আমরা কোনো পিন্ডি, দিল্লি, লন্ডন কিংবা আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি কোনো ব্যবসায়ীর কাছে বর্গা দিইনি। জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের জন্যই আমরা রাজনীতি করব।’ পরে মেহেরপুর শহীদ সামসুজ্জোহা পার্ক ও মুজিবনগরে পথসভা হয়।
