যুগান্তর প্রতিবেদন
বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি কোম্পানিগুলো স্থানীয় মুদ্রায় বা টাকায় ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে মেয়াদী ঋণ নিতে পারে। এই ঋণ নেওয়ার সীমা বা নীতিমালা আরও শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলো টাকায় ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে আরও বেশি ঋণ নেিত পারবে। আগে তারা নিজস্ব মূলধনের বিপরীতে ৫০ শতাংশ ঋণ নেিত পারতো। এখন থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে সংশ্লিস্ট বিদেশি কোম্পানির নিজস্ব মূলধনের ৬০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সার্কুলার ফঅইন্যান্স কোম্পানিগুলোতেও পাঠানো হবে। এতে বলা হয়েছে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সূত্র জানায়, দেশি কোম্পানিগুলোকে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কেও ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর বড় অংকের ঋণ সীমা মেনে চলতে হয়। দেশি কোম্পানিগুলো নিজস্ব সক্ষমতা অণুযায়ী ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর মূলধনের সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিয়ে থাকে। সেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে ৫০ অনুপাত ৫০ অর্থাৎ মূলধনের অর্ধেক ঋণ নিতে পারতো আগে। বাকিটা তারা নিজস্ব মূলধন বা বিদেশি অন্য কোন কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করতো। যে কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলোর এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণ বেশি। বিদেশি কোম্পানিগুলোর অর্থের জোগান বাড়াতে এখন থেকে তারা মূলধনের ৬০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। অর্থাৎ মূলধন ও ঋণের অনুপাত হবে ৪০:৬০।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশে বাল ব্যবসা করছে। তারা শ্রমিক কর্মচারীদের ভাল বেতন ভাতাও দিচ্ছে। এসব কারণে তাদেরকে ব্যবসা করার সুযোগ বাড়াতে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব কোম্পানিতে কর্মসংস্থানও বাড়বে।
সার্কুলারে বলা হয়, এসব ঋণ ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে কেবলমাত্র টাকায় নিতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রায় নয়। ঋণ নিতে হলে বাংলাদেশে কমপক্ষে তিন বছর ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর একক ঋণ সীমা, কোম্পানির ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সক্ষমতা, কোম্পানি আধুনিকায়ন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
