নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট কমছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে সার্বিক লেনদেন বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে আন্ত:ব্যাংকেও লেনদেন বাড়ছে। তবে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের নগদ টাকা তুলে হাতে রাখার প্রবনতা আবার বেড়ে গেছে। সাধারন ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকগুলোও ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে। দেশের সার্বিকভাবে ব্যবসা বাণিজ্যের গতি আগের চেয়ে কিছুটা বাড়ায় ব্যাংক খাতে লেনদেন বাড়ছে।
বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আন্ত:ব্যাংকে লেনদেন বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্ত:ব্যাংকে লেনদেন হয়েছিল ৭ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে এটি বেড়ে দাড়ায় ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। ফের্রুয়ারিতে আন্ত:ব্যাংকে লেনদেন আবার কমে দাড়ায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চে লেনদেন বেড়ে ৭ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। এক মাসের ব্যবদানে লেনদেন বেড়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় সব খাতেই লেনদেন বেড়েছে। তবে সরকারি খাতের লেনদেন কিছুটা কমেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সরকার কৃচ্ছতা সাধনের নীতি অনুস্মরণ করায় এ খাতে লেনদেন কমতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে ব্যাংকগুলোর প্রতি পারস্পারিক আস্থার অভাবও কমতে শুরু করেছে। ফলে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংককে এখন ধারও দিচ্ছে। যে কারনে কলমানিতে লেনদেন বেড়েছে।
ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। পাশাপাশি ঋণ বিতরণ, রেমিটেন্স সংগ্রহ, আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যও বেড়েছে। এসব কারণে লেনদেন বেড়ে গেছে।
এদিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লেনদেন বাড়ার অর্থই হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্যে গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এছাড়া লুটপাটের দুর্বল হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলো এখন ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে। সবগুলো ইসলামী ব্যাংকের সব ধরনের আর্থিক সূচকে ইতিবাচক পরির্বতন এসেছে। ব্যাংকগুলোর আমানত, বিনিয়োগ, রেমিটেন্স সংগ্রহ বেড়েছে। এদেও মাধ্যমে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যও বেড়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো চড়া দামে রেমিটেন্সের ডলার কিনে সেগুলো দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন করছে। ফলে এসব ব্যাংকে এলসি খোলার প্রবনতা বেড়েছে।
এদিকে গত বছরের জুনের তুলনায় মে মাসে ব্যাংক খাত থেকে নগদ টাকা তুলে গ্রাহকদের হাতে রাখার প্রবনতা বেড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ। গত বছরের জুনে তা কমেছিল দশমকি ৫১ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই মে মাসে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাকার প্রবনতা কমেছিল। ফ্েরল গ্রাহকদেও হাত থেকে ব্যাংকে ফেরৎ গিয়েছিল ২১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে গ্রাহকদেও হাতে রাখার প্রবনতা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।
