নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ডেকেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সমাবেশ চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভূত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালন করতে তারা এই সমাবেশ ডেকেছে। সমাবেশে তাদের প্রধান দাবি হবে জুলাই সনদ ঘোষনা করা। এই সনদ ঘোষনা না করলে তারা শহীদ মিনার ছাড়বে না। প্রয়োজন হলেও আরও একটি বড় আন্দোলনের ডাক দেবে।
গত বছরের ১ জুলাই থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নানা কর্মসূচী পালন করতে থাকে। ১৬ জুলাই এই আন্দোলন সংহিস রূপ ধারন করে। সারাদেশে ছয় জন নিহত হয়।এরপরে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত সহস্রাধিক নিহত হয়। ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর সব মানুষ বেরিয়ে আসে। তারা বিজয় উৎসব করতে থাকে।
এরপর থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই সনদ ঘোষনার উদ্যোগ নেয়। প্রথমেই তারা এটি ঘোষনার পদক্ষেপ নেয়। ঘোষনাপত্র তৈরিও করা হয়। কিন্তু সরকার এতে হস্তক্ষেপ করে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জুলাই সনদ ঘোষনার পদক্ষেপ নেয় সরকার। কিন্তু নানাভাবে সময় দিয়েও এটি এখন পর্যন্ত ঘোষনা করা হয়নি। বিএনপি, জামাতসহ অন্যান্য দলগুলো জুলাই সনদে নিজেদের অবদানের স্বীকৃতি চায়। ফলে এটি ঘোষনা ঝুলে পড়ে।
এখন ঐক্যমত্য কমিশনে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হচ্চে। এরভিত্তিতে আগামী ৫ আগস্ট এই সনদ ঘোষনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন হলে এর দুই দিন পরই এরশাদ পতনের ঘোষনাপত্র পাঠ করা হয়েছিল। ডাকসুর তৎকালীন সাধারন সম্পাদক খায়রুল কবীর খোখন টিএসিসিতে একটি বিশাল সমাবেশে এ ঘোষনাপত্র পাঠ করেন।
অথচ জুলাই আন্দোলনের জুলাই সনদ ঘোষনা নিয়ে এতো টালবাহানা হচ্ছে কেন-প্রশ্ন করেছেন ছাত্রেরা।
এবার তারা গ্রহণযোগ্য জুলাই সনদের ঘোষনা দাবি করেছেন। এক তরফা সনদ হলে হবে না। এ আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রদের একক কতৃত্ব ছিল। সেটিকেই স্বীকৃতি দিতে হবে।
