নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৬ মাসের জন্য ৪৩ ধরনের পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পণ্য ও খাত ভেদে সর্বনিম্ম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা। গত বছরের মতো এবারও রপ্তানিকারকরা ৪৩টি পণ্য ও সেবার বিপরীতে ওই হারে সহায়তা পাবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ধের আলোকে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৪৩টি পণ্য ও সেবা রপ্তানির বিপরীতে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা। গত বছর পুরো বছরের পণ্য প্রনোদনার হার ঘোষনা করা হয়েছিল। এবার ছয় মাসের জন্য ঘোষনা করা হলো। ছয় মাস পর রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রপ্তানিতে নগদ সহায়তা গতবছরে যে হারে দেওয়া হয়েছিল সেই হার এবারও বহাল রাখা হয়েছে।
রপ্তানির বিপরীতে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা ছাড়ের আগে বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করাতে হয়। ব্যাংকে নিয়োজিত বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ নিরীক্ষা করানো যাবে।
সার্কুলার অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য রপ্তানিমুখী দেশিয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র ব্র্যক এর পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ পাওয়া যাবে। ইউেরা অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের বিদ্যমান দেড় শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা দশমিক ৫০ শতাংংশ পাবেন। হাতে তৈরি হোগলা, খড়, আখের বা নারিকেলে ছোবড়া, ইত্যাদি দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, গরু মহিষের নাড়ি ভুরি দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, হিমায়িত মাছ রপÍানিতে দেড় থেকে ৮ শতাংশ প্রনোদনা পাওয়া যাবে। কৃষি পণ্য ও আলু রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রনোদনা দেবে সরকার। হালকা প্রকৌশল পণ্য ও হালাল মাংস রপ্তানিতে ১০ শতাংশ, সাভারের চামড়া নগরী থেকে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, পেট বোতল রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, জাহাজ রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত জুট পার্টিকেল ৮ শতাংশ, ফার্নিচার ৮ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ও দেশে উৎপাদিত কাগজ রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, আগর রপ্তানিতে ৮ শতাংশ প্রনোদনা পাওয়া যাবে।
দেশে তৈরি ওষুধ রপ্তানিতে ৫ শতাংশ, সিনথেটিক ব্যাগ, জুতা রপ্তানিতে ৮ শতাংশ, সফটওয়্যার বা তথ্য প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে আড়াই থেকে ৬ শতাংশ প্রনোদনা দেওয়া হবে। মোটরসাইকেল, রেজার ব্লেড, কাকড়া, কুচে, সিরামিক পণ্য রপ্তানিতে ৬ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। টুপি রপ্তানিতে ৭ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ৫ শতাংশ, চা রপ্তানিতে ২ শতাংশ, সিমেন্ট শিট ৩ শতাংশ প্রনোদনা মিলবে।
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে মিলবে প্রনোদনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার
Previous Articleজুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান বার্তা বৈষম্যের বিলোপ
Next Article ড.আবুল বারকাত গ্রেপ্তার
