# ডলারের দামে উর্ধ্বমুকী প্রবনতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করলেই আ্ইএমএফের যত আপত্তি, এখন ডলারের দাম ধরে রাখতে বাজারের চেয়ে বেশি দামে কিনছে, আইএমএফের কোন আপত্তি দেখা যাচ্ছে না
# বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার না কিনলে দাম আরও পড়ে যাবে, তখন রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্থ হবে
# বাজার পরিস্থিতির নালনাগাদ তথ্য আইএমএফকে জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের উর্ধ্বগতির প্রবনতা রোধ করার জন্য বাজারে হস্তক্ষেপ করতো। এখন ডলারের অব্যাহত পতন ঠেকাতে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। আগে যখন ডলারের উর্ধ্বমুখী প্ররনতা রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করতো তখন আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) তীব্র আপত্তি করতো। এখন ডলারের পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করলেও আইএমএফ একেবারেই ‘চুপ’। রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের প্রবাহ চাহিদার চেয়ে বেশি মাত্রায় বেড়ে গেছে। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ডলারের দাম কমছে। এর মধ্যে গড়ে কমেছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। সর্বোচ্চ কমেছে ২ টাকা ৭০ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ না করলে ডলারের দাম আরও কমে যেত। ডলারের দামে স্তিতিশীলতা রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করেছে।
রোববার ব্যাংকগুলোতে ডলারের সর্বনিম্ম দর নেমেছে ছিল ১২০ টাকা ৩০ পয়সা। সর্বোচ্চ দর নেমেছে ১২১ টাকা ২০ পয়সায়। গড় দাম ছিল ১২০ টাকা ৬০ পয়সা। দুই সপ্তাহ আগে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ম দর ১২৩ টাকায় ওঠেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণও বাড়ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা পাচার বহুলাংসে কমেছে। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা কম। কিন্তু সরবরাহ বেশি। এ কারণে কমছে ডলারের দাম। এতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ বেশি দামে ডলার কিনে ব্যাংকগুলোকে কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তারাও লোকসানের মুখে পড়েছে।
এদিকে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। তারা ডলারের অব্যাহত পতন ঠেকাতে বাজারের চেয়ে বেশি দামে ব্যাংক থেকে ডলার কেনে। রোববার ব্যাংকগুলোতে ডলারের গড় দাম ছিল গড় দাম ছিল ১২০ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু এদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে এই প্রথম নিলামের মাধ্যমে কিনেছে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলারের দাম ১২১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারন করে ব্যাংকগুলোকে অফার করে এই দামে কে কত ডলার বিক্রি করতে চায় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনবে। এই অফারের বিপরীতে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনে ব্যাংকগুলোকে নগদ টাকা দিয়েছে। এতে বাজারে টাকার প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে।
ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনলেও আইএমএফ একদম চুপ থেকেছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেখে যখন ডলার সংকট দেখা দেয় এবয় পর্যায়ক্রমে তা প্রকট আকার ধারন করে। ওই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম যাতে বেশি না বাড়তে পারে সেজন্য বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ
এমন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকাব্যাংকগুলোতে ডলারের আরও কমেছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এর দাম কমেছে প্রায় ২ টাকা ৪০ পয়সা। ডলারের সর্বনিম্ম দও এখন ১২০ টাকা ৩০ পয়সায় নেমেছে। সর্বোচ্চ দর নেমেছে ১২১ টাকা ২০ পয়সায়। এর আগে সর্বোচ্চ দর ১২৩ টাকায় ওঠেছিল। রেমিটেন্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ বাড়ার কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে ডলারের দামও কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।
মূলত গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে মুদ্রা পাচার বহুলাংসে কমে যায়। এর নেতিবাচক প্রভাবে ডলারের সংকট আরও প্রকট আকার ধারন করে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের উর্ধ্বমুখী প্রবনতা ঠেকাতে বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ করলেই আইএমএফ এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলতো। তারা বলতো এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বাজারের শৃংখলা নষ্ট করা হচ্ছে। অথচ এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ না করলে ডলারের দাম আরও কমে যেত।
এর আগে ২০২১ সালের আগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম ধরে রাখতে ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে। তখনও ডলারের প্রবাহ বেশি ছিল, চাহিদা কম ছিল। ফলে ডলারের দাম কমছিল। দাম ধরে রাখতে তখন বাজার থেকে ডলার কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়িয়েছে। তখনও আইএমএফ চুপ ছিল।
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ডলারের দাম যখন বাড়তে থাকে তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও হস্তক্ষেপ বাড়াতে থাকে। তখন আইএমএফের আপত্তিও বাড়তে থাকে। ডলারের দামের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে গেলেই আইএমএফের যত আপত্তি।
আইএমএফের চাপে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়। আইএমএফের ধারনা ছিল এতে ডলারের দাম অনেক বেশি বাড়বে। কিন্তু বেড়েছে মাত্রা এক টাকা। ১২২ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা হয়েছে। এরপর দুই সপ্তাহ আগে থেকে ডলারের দাম কমতে থাকে। এখন তা কমে ১২০ টাকা ৩০ পয়সায় নেমেছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আইএমএফ কি বললো না বললো সেটার ওপর নির্ভর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন সিন্ধান্ত নিচ্ছে না। ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করছে। প্রয়োজনে আগামীতেও করবে। কারণ রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের চলমান প্রবাহ ধরে রাখতে হবে।
এদিকে আইএমএফ ডলারের বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিনের ডলারের পরিস্থিতি, দামের ওঠানামা ও রিজার্ভ পরিস্তিতি আইএমএফকে জানাচ্ছে। এছাড়া আইএমএফ নিজস্ব উৎস্য থেকে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
