২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন নাহিদ ইসলাম। সেই সব দিনের কথা স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের একপর্যায়ে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিই যে, হয় আমরা বেঁচে থাকব, না হয় মরে যাব। বেঁচে থাকলে আমরা এই সরকারকে উৎখাত করব, আর নইলে আমাদের মৃত্যু হবে। আমরা এই ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতির মধ্যে চলে গিয়েছিলাম।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম গত বছরের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেখ হাসিনার পতনের জন্য এক দফা ঘোষণা করেন। সময়টি তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। গুম, নির্যাতন, নজরদারি, হুমকি আর চোখের সামনে হাজারো মানুষের মৃত্যু অন্যদিকে স্বৈরাচারী সরকার থেকে মানুষের মুক্তি- এই দুইয়ের মধ্যে তাকে মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পথটিই বেছে নিতে হয়েছিল।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বছরের ৫ জুন কোর্টের রায়ের পর আমরা দেখলাম যে এটা শিক্ষার্থীদের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল, তখন সবাই এর সংস্কার চেয়েছিল, বাতিল নয়। কিন্তু সরকার নিজে থেকে সব কোটা বাতিল ঘোষণা করে। কিন্তু ২০২৪-এ এসে একটি একতরফা নির্বাচনের পর কোর্টের মাধ্যমে আবার কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। সেটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাস্থা, ক্ষোভ, হতাশা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করে।’
সেন্ট্রাল লাইব্রেরি থেকে সেদিন এর প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। প্রথম দাবিটি ছিল ২০১৮ সালের যে দাবি তা পুনর্বহাল করা। আন্দোলনের তিন দিনের মধ্যে ঈদের বন্ধ চলে আসে। বন্ধের আগে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়ে এসেছিলাম। প্রাথমিক দাবি ছিল যেন রায় স্থগিত করে পরিপত্র বহাল করার। ঈদের বন্ধ থাকায় আমরা একটা আল্টিমেটাম দেই ৩০ জুন পর্যন্ত। এদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই রায়ের বিরুদ্ধে এবং কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। আমরা অনলাইনে মিটিং করি, ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করি। সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো কিছু করা হলো না তখন ১ জুলাই আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি পালন করি।’
এই সমন্বয়ক জানান, একই ব্যানারে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালিত হয়। ৪ জুলাই কোর্টের একটা রায় দেয়ার কথা থাকলেও কোর্ট সেদিন কোনো বক্তব্য দেয়নি। এভাবে এটা পাঁচ-ছয় জুলাই পর্যন্ত চলে যায়। এরপর আমরা একটা পর্যায়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ নেতা বলেন, আমরা ১৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি বরাবর একটা স্মারকলিপি দেই। এদিন একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। শেখ হাসিনা চীন সফর থেকে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিল না বরং একে ‘রাজাকারদের আন্দোলন’ অ্যাখ্যা দিল। শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী, তাদের অভিভাবক ও পরিবার সম্পর্কে অত্যন্ত মর্যাদাহানিকর কটু মন্তব্য করে। শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখায়। হলে হলে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়া শুরু করে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখে আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি, ক্যাম্পাসে গিয়েছি। সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে আহ্বান করেছি। সবাই খুবই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সে রাতে রাস্তায় নেমে আসে।’
আন্দোলনে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানতাম যে আন্দোলনে কোনো একটা পর্যায়ে ছাত্রলীগ বা পুলিশ হামলা করবে। গ্রেফতার হতে পারি এ রকম একটা মানসিক প্রস্তুতিও আমাদের ছিল। কিন্তু সেদিন (১৫ জুলাই) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ যে ভয়াবহ হামলা চালায়, তার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কিংবা নারীদের ওপর এভাবে হামলা করবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। মেয়েরা ব্যাপক সংখ্যায় এ আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে এবং ভ্যানগার্ড হিসেবে ছিল। সে কারণে নারীদেরকেই আক্রমণ করা হয়।
আন্দোলনের পটপরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, এদিকে সেদিন ডিএমসিতে (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ) ঢুকে ব্যাপকভাবে আহতদের ওপরও হামলা করা হয় কয়েক দফায়। এর প্রতিবাদে তো পরের দিন ১৬ তারিখ ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সবাই রাস্তায় নেমে আসে। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলো ওই দিন ব্যাপকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এর এক দুই দিনের মাথায় আন্দোলন অন্যভাবে টার্ন নেয়।’
‘১৫ তারিখ আমাদের বোনেরা যেভাবে আহত হয়েছে তা ছিল ভয়াবহ। ১৬ তারিখ আবু সাঈদ শহীদ হলো। তার মৃত্যুর খবর আমি শহীদ মিনারে প্রথম ঘোষণা দিয়ে বলি, আমাদের এক ভাই শহীদ হয়েছে। এর আগের দিন আবু সাঈদের সাথে বাকেরের কথা হয়। বাকেরের কাছে আবু সাঈদ জানতে চায় পর দিনের পরিকল্পনা কী? বাকের জানায়, আমরা মাঠে থাকব যে কোনো মূল্যে। আবু সাঈদ জীবন দিয়ে তার অটল সংকল্প প্রমাণ করছে- সে মাঠ ছাড়েনি, দাঁড়িয়ে ছিল বুলেটের সামনে। ওই ঘটনা আমাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে, আলোড়িত করে।’
১৬ জুলাই রাত পর্যন্ত ছয়জন মারা গেছে। সেই রাতে আমি একটা ভিডিও বার্তা দিই। আন্দোলন তখন আর কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ ছিল না। আন্দোলনটাও তখন আরেক দিকে মোড় নেয়ার পথে ছিল। এই পরিস্থিতি আঁচ করেই সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমরা যখন সকালে (১৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি, দেখি, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনেক হলের শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ ইতঃমধ্যে হল ছেড়ে চলে গেছে। আমরা হলে হলে গিয়ে সবাইকে থাকার অনুরোধ করি, সাহস দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। ক্যাম্পাস এলাকায় ব্যাপক মাত্রায় পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবসহ এমন কোনো বাহিনী ছিল না যাদের সেদিন মোতায়েন করেনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কফিন মিছিল শুরু হলে তারা টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড মারা শুরু করে। একপর্যায়ে আমরা হলে ফিরে যাই, হল পাড়ায় অবস্থান নিই। সেখানেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ১৭ জুলাই রাতে আমরা কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিই। এদিকে পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, এ আন্দোলন আমাদের পক্ষে টেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না যদি না সাধারণ মানুষ এ আন্দোলনে নামে। তবে পরদিন (১৮ জুলাই) দেখি প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা শুরু করে। ১৮ তারিখ থেকে আন্দোলনটা একেবারে জনগণের কাতারে চলে আসে। এর মধ্যে (১৭ জুলাই সন্ধ্যায়) সরকার ঘোষণা দেয়, বুধবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য কারফিউ চলবে। আমি তখন ঘোষণা দিই যে কারফিউর মধ্যেও আমাদের কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।’
সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, একপর্যায়ে আমরা বুঝতে পারি আমাদেরকে মিডিয়া থেকে ব্ল্যাকআউট করে ফেলা হয়েছে। তখন মিডিয়ায় আমাদের নামে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর নিউজ ছড়ানো হয়। এ সময়ে আমি মোবাইল অন করি। সবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই যা হওয়ার হবে, আমি পাবলিক থাকব। ২০ তারিখ আমি আবারো কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা দিই। তখন মিডিয়াকে আমি জানাই। যদিও সে নিউজ কোথাও প্রচার হয়নি। এদিকে সরকার ২০ তারিখ আবার কারফিউ ঘোষণা করে। তখন আমি ঘোষণা দেই কারফিউর মধ্যে শাটডাউন চলমান থাকবে। এটা ১৯ তারিখ রাতেই মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিই।
সেই রাতেই রাত ২টা বা আড়াইটার দিকে কিছু লোক ডিবি পরিচয়ে আমার বন্ধুর বাসায় আসে। আমাকে গাড়িতে তুলে নেয়, হ্যান্ডকাফ পরায় এবং চোখ বেঁধে দেয়। এরপর গাড়িতে তারা আমাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আমার ওপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ২১ তারিখ ভোরবেলা আমাকে পূর্বাচল এলাকায় ফেলে রেখে যায়। তখন থেকেই আমরা আবার আন্দোলন বিষয়ে সবার সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও দিকনির্দেশনা দিতে শুরু করি।’
তিনি বলেন, এই বিষয়টি নজরে আসতেই আমাদের আবার ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তখন থেকে ডিবি হেফাজতে থাকি। ডিবির হেফাজতে আমাদের ওপর নানা রকম চাপ প্রয়োগ করা হয় আন্দোলন বন্ধ করার জন্য। আমি সেখানে ছিলাম ছয় দিন। ডিবি অফিসে আমাদের প্রথমে আন্দোলন স্থগিত করতে বলা হয়। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। পরপর দুই দিন আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। এরপর আমাদের কয়েকজনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন বাড়ানো হয়। আমাদের পরিবার ও মেয়েদের গ্রেফতারের হুমকি দেয়া হয়, এমনকি একজন মেয়েকে সত্যিই ডিবিতে নিয়ে আসা হয়। আমাদের পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের ভয়ভীতির মধ্যে রাখা হয়। হুমকি ও চাপপ্রয়োগের মাধ্যমে তারা আমাদের আন্দোলনটা স্থগিত করতে বলে। আমরা বলি, আন্দোলন শেষ করার ঘোষণা দেব, তবে তা বাইরে গিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাব। তবে তারা সেটা মানেনি।
নির্যাতনের মধ্যেও হার না মানার কথা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এরপর আমাদের খাওয়ার সময় জোর করে খাওয়ানো হয়, এবং এই ভিডিও ছড়িয়ে আন্দোলন শেষ হয়েছে- এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু বাইরে যারা ছিল, তারা এসব বিশ্বাস করেনি। বরং তারা আন্দোলনকে আরো শক্তভাবে চালিয়ে যায়। হাইকোর্ট বরাবর মার্চ হয়েছে সেটি আমরা বুঝতে পেরেছি। একসময় আমরা বুঝতে পেরেছি আমরা স্টেটমেন্ট দেয়ার পর লোকজন বিশ^াস করে নাই এবং আরো ব্যাপকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যায়। মানুষ অনেক ক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। এবং তারা (ডিবি) আর মামলায় গ্রেফতারও দেখাতে পারবে না। এটা যখন আমরা বুঝতে পেরেছি তখন ডিবি অফিসে নীরব আন্দোলন শুরু করি। আমরা তাদের কোনো ধরনের ডিরেকশন মানছিলাম না। অনশন শুরু করি। তারা একটা সময় চেষ্টা করছিল আমাদেরকে সেখান থেকে শেখ হাসিনার অফিসে নিয়ে যাওয়ার। একপর্যায়ে অনশনের কারণে তারা আমাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।’
‘১ আগস্ট আমরা সেখান থেকে বের হই। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে ৩ আগস্ট আমরা এক দফার ঘোষণা দেবো। সে প্রেক্ষিতে ৩ তারিখে শহীদ মিনারে ঐতিহাসিক এক দফার ঘোষণাটা দিই।’ তিনি বলেন, ‘সেদিন আমরা যে চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে চলে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে আমাদের আর পেছনে ফেরার সুযোগ ছিল না। এটা আমরা জেনেশুনেই চূড়ান্ত অবস্থায় গেছি। একদফার ঘোষক বলেন, ‘৪ তারিখেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে প্রয়োজনে অস্ত্রও তুলে নিতে পারি। সেদিনই সারা দেশে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালায় এবং হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আমরা কর্মসূচিটা (লংমার্চ) একদিন আগে নিয়ে আসি। যাতে করে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে কোনো ধরনের পরিকল্পনা করার সুযোগ না পায়।’
সরকার পতন আন্দোলনের এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ৪ তারিখ রাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছিলাম। ঢাকার কতগুলো পয়েন্ট থেকে আন্দোলনকারীরা আসবে। গণভবন কিভাবে ঘেরাও হবে। বা এই সরকারের পতনের পর আমরা কী করব। ৩ আগস্টের পর থেকেই এ আলোচনাগুলো শুরু হয়ে যায়। ড. ইউনূসের সাথে যোগাযোগ হয়। বিভিন্ন লোকজনের সাথে আলোচনা হয়। সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে। কে হতে পারে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্য উপদেষ্টারা কারা হবেন এসব বিষয় নিয়ে আমরা পুরো ব্যস্ত ছিলাম। ৩ আগস্ট থেকে আমাদের মধ্যে এ আত্মবিশ^াস চলে এসেছিল যে সরকারের পতন হবে। কবে হবে, কিভাবে হবে তা হয়তো নিশ্চিত ছিলাম না।’
তিনি বলেন, ‘৫ তারিখে যে সরকারের পতন হবে তাও নিশ্চিত ছিলাম না। দেখলাম যে সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সৈনিকরা, তরুণ অফিসাররা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা যখন শাহবাগ থেকে গণভবনের দিকে মার্চ করা শুরু করি আর ওই দিকে উত্তরার দিক থেকে মানুষ আসা শুরু করে, তখন আমরা শুনতে পাই শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। আমরা এটা দুপুর একটা-দুইটার দিকে শুনতে পাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে।’
শেষ পর্যন্ত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিকামী মানুষের অপ্রতিরোধ্য স্রোত। আন্দোলনের সাফল্য উদযাপনে বিজয় মিছিলে মেতে ওঠে সারা দেশ।
