যুগান্তর প্রতিবেদন
ব্যাংকগুলোতে আমদানি খাতে ডলারের দাম আরও কমেছে। বুধবার প্রতি ডলার গড়ে ১২২ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। ডলারের সর্বনিম্ম দাম ছিল ১২১ টাকা ৮৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। গত দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম প্রায় এক টাকা কমেছে। আমদানি খাতে ডলারের দাম কমার পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও এর দাম কমছে। মূলত রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলারের প্রবাহ বেড়েছে। এতে এর দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে ডলারের দাম কমাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, ডলারের দাম কমার কারণে আমদানিতে খরচ কমবে। ফলে আমদানি পণ্যের দাম কিছুটা হলেও কমার কথা। এর প্রভাবে দুই দিক থেকে চাপ কমবে মূল্যস্ফীতিতে। একদিকে আমদানি পণ্যের দাম কমা ও অন্যদিকে টাকার মান বৃদ্ধি। ফলে আগামীতে মূল্যস্ফীতির হার আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ডলারের দাম গড়ে ৬০ পয়সা কমেছিল। মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা করে। এর আগে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর এর মূল্য বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকায় উঠেছিল। বুধবার এর দাম আরও কমে গড়ে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা করে। একই দিন প্রায় দুই মাস পর ডলারের সর্বনিম্ম দাম ১২২ টাকার নীচে নেমেছে। অর্থাৎ ১২১ টাকা ৮৫ পয়সায় বিক্রি হয়েছে।
ব্যাংক খাতে রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে ডলারের প্রবাহ বেড়েছে। এ কারণে ব্যাংকে ডলারের চাহিদাও কম। যে কারণে এর দাম কিছুটা কমেছে। তবে দুর্বল কিছু ব্যাংক এখনও চড়া দামে ডলার কিনছে। যে কারণে তারা চাড়া দামে বিক্রি করছে। এতে ডলারের গড় দাম একটু বেশি পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে দুর্বল ব্যাংকগুলো সবল হলে ডলারের দাম আরও কিছুটা কমবে। তবে এর দাম কমার কারণে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সে যাতে কোন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
এর আগে আইএমএফের চাপে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডলারের দাম বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাজার তদারকিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোরদার তৎপরতা চালায়। যে কারণে বাজারের ওপর ছাড়া হলেও ডলার নিয়ে কেউ কারসাজি করতে পারেনি।
সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর বকেয়া ঋণের দায় পরিশোধের চাপ কমেছে। এখন শুধু চলতি আমদানির এলসির দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে সরকারি খাতে এখনও জ্বালানি খাতের বেশ কিছু বকেয়া রয়ে গেছে। সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করছে। যে কারণে ব্যাংকগুলোতেও ডলারের চাপ কম।
এছাড়া আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকাসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণের অর্থ ছাড় করায় রিজার্ভ বেড়েছে। গত সোমবার ২০১ কোটি ডলার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের দায় পরিশোধের পরও গ্রস রিজার্ভ এখন ৩ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় ডলারের দাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কমতে শুরু করেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। এসব কারণে দেশের বাজারেও ডলারের দাম কমছে।
Previous Articleপারাপারের যান না পেয়ে অসুস্থ কিশোরের মৃত্যু
Next Article নতুন উদ্যোক্তারা ৪% সুদে ঋণ পাবেন
