নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ৫ আগষ্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘোষনাপত্র পাঠ করবেন। এ অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে ছাত্রজনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
রোববার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ছত্রিশ জুলাই-গত বছর এদিনে পৃথিবী দেখেছিল এক অভাবনীয় গণ-অভ্যুত্থান। ফলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট। বহু শহীদের রক্ত ও যোদ্ধার ত্যাগের পথ ধরে পুরো বাংলাদেশ এক হয়েছিল। পথে পথে ছিল উল্লাসমুখর জনতার জোয়ার। বাংলাদেশের বহু রাস্তায় আবেগাপ্লুত মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন। এক বছর পর আবার ফিরে এসেছে ছত্রিশ জুলাই। এদিনে ঘোষিত হচ্ছে জাতির আকাঙ্খিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালন উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি নিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপনে থাকবে দিনভর নানা অনুষ্ঠান। বিকাল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। ৩৬ জুলাই উদযাপনের আয়োজনে এছাড়া আরও থাকছে ৬৪ জেলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ সকাল ৯টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ। পাশাপাশি সারা দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ ‘বিজয় মিছিল’ নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে সম্মিলিত হবে।
অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকছে- সকাল ১১টায় ‘টং’ এর গান, ১১টা ২০ মিনিটে সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী, ১১টা ৪০ মিনিটে কলরব শিল্পী গোষ্ঠী, ১২টা ৫ মিনিটে নাহিদ, সাড়ে ১২টায় তাশফির সংগীত পরিবেশন করবেন। দুপুর ১টায় নামাজের বিরতির পর একে একে পারফর্ম করবেন চিটাগাং হিপহপ হুড, সেজান এবং শূন্য ব্যান্ড। এরপর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ‘ফ্যাসিস্টের পলায়ন ক্ষণ’ উদযাপন করা হবে। ‘পলায়ন ক্ষণ’ উদযাপনের পর শুরু হবে কনসার্ট। একে একে পারফর্ম করবেন সায়ান, ইথুন বাবু ও মৌসুমি, সোলস এবং ওয়ারফেজ।
এরপর আসরের নামাজের বিরতি চলবে। বিরতির পর বিকাল ৫টায় ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করা হবে। এ সময় উপস্থিত থাকবেন- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সবার অংশগ্রহণে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের সামনে লাখো কণ্ঠে জুলাইয়ের গান ‘কতো বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা …’ গাওয়া হবে।
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের পর আবারও শুরু হবে কনসার্ট। একে একে পারফর্ম করবে বেসিক গিটার লারনিং স্কুল, এফ মাইনর এবং পারশা। এরপর মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পারফর্ম করবেন এলিটা করিম। তার পারফর্মেন্সের পর অনুষ্ঠিত হবে স্পেশাল ড্রোন ড্রামা। ড্রোন শো-এর পর সংগীত পরিবেশন করবে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল।
এদিন ‘নোটস অন জুলাই’ জুলাইয়ের কিছু নির্বাচিত ছবি দিয়ে পোস্টকার্ড ডিজাইন করা হবে যা জনসমাগমের মধ্যে ভলান্টিয়াররা নিয়ে ঘুরবেন এবং জনগণ ইচ্ছেমতো পোস্টকার্ড নিয়ে নিজেদের জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা লিখতে পারবেন।
