নিজস্ব প্রতিবেদক
আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় গত জুনে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মানে সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের কারণে বৈশ্বিকভাবে ডলার যখন প্রচন্ড চাপে পড়েছে। এ কারণে ডলারের মান কমেছে গত এক মাসে ৯ শতাংশের বেশি। মার্কিন ডলারের এতো চাপের মধ্যেও টাকার মান কমেছে। এর মধ্যেও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার নিয়ে এই প্রথমবারের মতো এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ডলারের বিপরীতে ৩ দশমকি ৮৯ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়ন ছিল আশেপাশের দেশগুলোর মুদ্রার মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে চলতি জুলাইয়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ১ দশমকি ৮৬ শতাংশ।
প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত জুনে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মুদ্রার মান কমেছে। বাংলাদেশের আশেপাশের অন্য দেশগুলোর মুদ্রার মান বেড়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় মুদ্রর মান কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ, পাকিস্তানী মুদ্রার মান কমেছে ২ শতাংশ। চীনের মুদ্রার মান বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ, শ্রীলংকার মুদ্রার মান বেড়েছে ২ শতাংশ। মালয়েশিয়ার মুদ্রার মান সবচেয়ে বেশি বেড়েছ্ েএক মাসে। ডলারের বিপরীতে এর মান বেড়েছে ১০ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রার মান বেড়েছে ১ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার মুদ্রার মান বেড়েছে ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাককার মান স্তিতিমীল ছিল। গত মাসে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কারণে ডলারের ওপর চাপ বেড়ে যায়। এতে ডলারের দাম কিছুটা বাড়তে থাকে। এর নেপথ্যে আমদানি কোন ভ’মিকা রাখেনি। কারণ আমদানির চাহিদা ছিল কম। এর বিপরীতে আগের স্থগিত বকেয়া ঋণ পরিশোধের চাপ বেশি থাকার কারণে ডলারের ওপর বাড়তি চাপ বেড়েছে। বৈদেশিক বকেয়া দায় পরিশোধের পর এখন এই চাপ কমে এসেছে।
