Close Menu
বিপ্লবের বীণা
    What's Hot

    পর্দায় শেখ হাসিনা হলেন সীমা, টিজারে ভারত-বাংলাদেশের টানাপোড়েন

    Facebook X (Twitter) Instagram
    Monday, March 2
    বিপ্লবের বীণা
    YouTube Facebook X (Twitter) Instagram
    • প্রচ্ছদ
    • অর্থনীতি
    • রাজনীতি
    • অপরাধ
    • জাতীয়
    • ভ্রমণ
    • শিল্প সংস্কৃতি
    • বিশ্ব
    • খেলা
    Subscribe
    বিপ্লবের বীণা
    You are at:Home » এনসিপি’র ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা
    রাজনীতি

    এনসিপি’র ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা

    শহীদ মিনাবে সমাবেশ
    August 4, 2025No Comments8 Mins Read0 Views
    Facebook Twitter Pinterest Telegram LinkedIn Tumblr Email Reddit
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest WhatsApp Email

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও সেকেন্ড রিপাবলিক সহ আগামীর বাংলাদেশ গঠনে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণার সমাবেশে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক একদফা কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে নয়, কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে নয়, কোনো দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি। একদফা ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। ফলে একদফার প্রকৃত ঘোষক হলেন বাংলাদেশের জনগণ, বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতা এবং শহীদ ভাইবোনেরা।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৩রা আগস্ট। এক বছর পার হচ্ছে এ দিনের। ঠিক এক বছর আগে আমরা শহীদ মিনারে সমবেত হয়েছিলাম। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের মানুষ, এই ঢাকা শহরের মানুষ শহীদ মিনারে নেমে এসেছিল। এখান থেকে আমরা ফ্যাসিবাদী বিলুপের ঐতিহাসিক একদফা ঘোষণা করেছিলাম।

    তিনি বলেন, আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে এই শহীদ মিনারেই আমরা শপথ নিয়েছিলাম এই দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করবো। আপনারা সেই আহ্বানে সাড়া দেয়ায় আমরা সবাই মিলে ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাজিত করেছি এবং দেশের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে এনেছি। 

    এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, পুরনো বন্দোবস্তের পতন ঘটাতে পারিনি, নতুন সংবিধান তৈরি করতে পারিনি, ক্ষমতার দুর্নীতিপরায়ণ স্তম্ভ ও সামরিক-প্রশাসনিক কাঠামো ভাঙতে পারিনি। আজ আমরা নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করতেই এখানে এসেছি।

    এরপর তিনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা দেন। এসবের মধ্যে রয়েছে- নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার, সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, সর্বজনীন স্বাস্থ্য, জাতিগঠনে শিক্ষানীতি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব, ধর্ম, সমপ্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা, নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন, মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি, তারুণ্য ও কর্মসংস্থান, বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি, টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা, জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা, প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার, বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল। 

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এনসিপি’র কর্মীদের কেউ যদি চোখ রাঙায় এবং হুমকি দেয়, তাহলে এখন থেকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে এসেছি। এ এক বছর আমরা শুধু কথা বলে গেছি, এখন সময় কাজের। আমাদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দিকনির্দেশনা দেবেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকবো।

    এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। জুলাই সনদের সংস্কারকে অন্তর্বর্তী সরকারকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। 

    এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান একটা দলের ছিল। যে সংবিধান আরেকটা দেশ থেকে পাস হয়ে এসেছে। এই মুজিববাদী সংবিধান আর বাংলাদেশে থাকতে দিতে পারি না। আমরা আজ এই মঞ্চে মুজিববাদী সংবিধান ভেঙে চুরে শেষ করে দিয়ে নতুন সংবিধান চাইতে এসেছি।

    এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলার এই ইয়াজিদ শেখ হাসিনার বিচার জনগণের আদালতে হবেই। আমরা মাঠ ছাড়ি নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।

    এনসিপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, আমরা এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে টাকার অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না। চিকিৎসা যেন আর কারও জন্য বিলাসিতা না হয়।

    সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

    ২৪ দফার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো- 
    নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক: উপনিবেশবিরোধী লড়াই, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আমরা বহু ভাষা ও সংস্কৃতি ও জাতির নতুন বাংলাদেশ তৈরি করবো। পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে, আমাদের রাষ্ট্রের নতুন যাত্রায়, আমাদের প্রথম অঙ্গীকারই হচ্ছে গণপরিষদের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান। আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করবো।

    জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার: এই জনপদের মানুষের উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই, এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ই আমাদের প্রেরণা। আমরা জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করবো।

    গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার: আমরা এমন একটি ইনসাফের রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পক্ষপাতহীন, নৈর্ব্যক্তিক, মানবিক ও গণমুখী। জনসেবাই হবে তাদের মূলমন্ত্র।

    ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার: আমাদের রাষ্ট্রে স্বাধীন বিচারবিভাগ ক্ষমতাবানদের পক্ষে অন্ধ অবস্থান নিবে না, বরং মজলুমকে তার প্রাপ্য ন্যায়বিচার বুঝিয়ে দিবে।

    সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন: বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণের মাধ্যমে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; আমরা প্রশাসনে সকল প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করবো।

    জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে, ওয়ারেন্ট ছাড়া তুলে নিয়ে যেতে না পারে।

    গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার: মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসছে, এতে শহরগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হচ্ছে। আমরা গ্রামের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিতে চাই।

    স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ: আমরা সংবাদমাধ্যমের শতভাগ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি এবং যথাযথ আইনি ও নীতি কাঠামোর মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করবো। আমরা প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করবো। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা করপোরেশনের কাছে যাতে বহু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকানা যেন কুক্ষিগত না হয়, রাজনৈতিক দলের স্বার্থের হাতিয়ার না হয়, বরং গণমাধ্যম জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে আমরা তার আইনি কাঠামো তৈরি করবো।

    সার্বজনীন স্বাস্থ্য: আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো, যেখানে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না। এমন জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো, যাতে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে এম্বুলেন্সেই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করা যায়। সে উদ্দেশ্যে সারা দেশে জিপিএস-চালিত এম্বুলেন্স ও ডিসপ্যাচ ব্যবস্থা তৈরি করবো।

    জাতিগঠনে শিক্ষানীতি: আমরা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ভবিষ্যতের উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত একটি দক্ষ, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবো। শিক্ষা পণ্য নয়, অধিকার। বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল ও চিকিৎসা শিক্ষায় শক্ত ভিত তৈরিতে আমাদের থাকবে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। আমাদের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক তৈরি করবে।

    গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব: আমরা উন্নত বিশ্ব থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দেশে প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

    ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা: ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হওয়া সত্ত্বেও, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ও আচরণকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্যাতনের উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা সকল ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর ধর্মীয়, নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে একটি বহুভাষা, বহু-সংস্কৃতি, বহু-জাতিভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়বো।

    নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের পরও রাষ্ট্র জাতীয় জীবনে ব্যাপক হারে নারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধিদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো যার সংখ্যা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস করা হবে।

    মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি: অর্থনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানুষের সামগ্রিক বিকাশ। কেবল দক্ষতা নয়, মানুষের উদ্দেশ্য, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনে বিনিয়োগ করতে হবে। আমরা বাজারভিত্তিক কিন্তু কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শন মেনে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারুণ্য ও কর্মসংস্থান: আজ বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ বেকার, এদের প্রতি তিনজনের দুইজনই তরুণ। সকল কর্মক্ষম নাগরিকের জন্য দেশে ও বিদেশে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমরা রপ্তানিমুখী শ্রমঘন-শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলবো। 

    বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে রপ্তানির বহুমুখীকরণ এবং বিকল্প বাজারে প্রবেশাধিকারে বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি। রপ্তানি বাজার সমপ্রসারণে আমরা বিভিন্ন দেশ ও ব্লকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবো।

    টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব: আমাদের নতুন বাংলাদেশে কৃষি পণ্যের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি ক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণ হবে। আমরা কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, জলবায়ু-সহনশীল জাতের বীজ, পরিবেশবান্ধব সার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তার ওপর যথাযথ ভর্তুকি প্রদান করবো- যার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বাড়ানো হবে।

    শ্রমিক-কৃষকের অধিকার: আমরা বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক, কৃষি, গৃহ, অভিবাসী, পরিবহন ও স্বনিয়োজিত সকল শ্রমিকের স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবো।

    জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা: আমরা জাতীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের সার্বভৌম মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবো।

    নগরায়ণ, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা: অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আমাদের শহরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমরা রাজধানীসহ শহরগুলোতে নদী ও খালকেন্দ্রিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উচ্চগতির গণপরিবহনমুখী ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। বায়ুদূষণ মোকাবিলা, সুপেয় পানির সুব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, খাল ও দখলকৃত জমি উদ্ধার, গ্রিন বেল্ট, জনপরিসর তৈরি করবো।

    জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা: আমরা একটি জলবায়ু-সহনশীল, দূষণমুক্ত ও পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়বো যেখানে নদী, বায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবুজ-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

    প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার: আমরা মনে করি প্রবাসী বাংলাদেশিরা কেবল রেমিট্যান্সের উৎস নন, তারা রাষ্ট্রের সম্মান, সংগ্রাম ও পুনর্গঠনের অন্যতম অংশীদার এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যে দেড় কোটির বেশি প্রবাসী অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন, আমরা সেই অবদানকে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করবো।

    বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রনীতি: আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় দলীয় স্বার্থ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থাকবে। এনসিপি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন থাকবে।

    জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল: আমরা বিশ্বাস করি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ছাড়া কার্যকরী বৈদেশিক নীতি সম্ভব নয়। গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের ভিত্তিতে আমরা তরুণ জনগোষ্ঠীকে একটি সংগঠিত সুশৃঙ্খল শক্তি হিসেবে দেশের সর্বাত্মক সেবায় উদ্বুদ্ধ করবো।

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে দুপুরের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। বৃষ্টির কারণে শুরুতে লোক সমাগম কম ছিল। পরে কিছুটা দেরিতে সমাবেশ শুরু হয়। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যখন ইশতেহার ঘোষণা করেন তখন সমাবেশস্থলে ব্যাপক লোক সমাগম ছিল।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Reddit WhatsApp Telegram Email
    Previous Articleভোলায় ‘আপ বাংলাদেশ’
    Next Article হাসিনার বিচার শুরু

    Related Posts

    অভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে সরকার বেইমানি করেছে : রেজা কিবরিয়া

    August 17, 2025

    কক্সবাজার ভ্রমণ : এনসিপির ৫ নেতার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার

    August 17, 2025

    জুলাই সনদ : ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা যাবে না

    August 17, 2025
    Demo
    শীর্ষ খবর

    যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমাবে : অনেক বিষয়ে ঐক্যমত হয়নি

    July 12, 202513 Views

    ‘ঐ শোন বিপ্লবের বীণা’

    August 5, 202512 Views

    ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ছে

    June 20, 202510 Views

    ডলারের দাম বেড়ে আবার ১২২ টাকায় ওঠেছে

    July 24, 20259 Views

    ডিসেম্বরের শুরুতে নির্বাচনী তফসিল

    August 7, 20258 Views
    Don't Miss
    মিডিয়া November 9, 2025

    নভেম্বরেই মাঠে নামছে দলগুলো, রাজপথ কি উত্তপ্ত? নভেম্বরে দাবি আদায়ে রাজপথে নামছে বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ…

    গাজার শিশুরা মরতে চায়, যেন স্বর্গে গিয়ে খাবার পায়: সেভ দ্য চিলড্রেন

    শনিবার জাতীয় ক্যালিগ্রাফি ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী শুরু

    Stay In Touch
    • Facebook
    • Twitter
    • Pinterest
    • Instagram
    • YouTube
    • Vimeo

    Subscribe to Updates

    Get the latest creative news from SmartMag about art & design.

    Demo
    © 2026 ThemeSphere. Designed by ThemeSphere.
    • প্রচ্ছদ
    • অর্থনীতি
    • রাজনীতি
    • অপরাধ
    • জাতীয়
    • ভ্রমণ
    • শিল্প সংস্কৃতি
    • বিশ্ব
    • খেলা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.