নিজস্ব প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের ওপর দফায় দফায় হামলার পরিকল্পিত। দলটি যাতে গোপালগঞ্জে সভাসমাবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে আগে থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্ররীগ পরিকল্পনা করেছিল। এ লক্ষ্যে আশেপাশের জেলা থেকেও কর্মীদের জড়ো করেছিল গোপালগঞ্জে। তারা এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জে প্রবেশের সময় থেকেই পরিকল্পা করে। সে অনুযায়ী কাজও করে। কিন্তু প্রশাসন তাদের মামলা প্রতিরোধে সক্রিয় ছিল না। বরং প্রশানের লোকজন ও পুলিশ নিজেদের বাচাতেই বেশি তৎপার ছিল।
গোপালগঞ্জে অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছিল তেমন কিছু হবে না। হলেও খুব সামান্য। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মিরা যে বিশাল পরিকল্পনা এটে আছে সেটি প্রশাসনের লোকজন কিছুই জানতো না।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ফাইটার বাহিনীকে গোপালগঞ্জে আনা হয়। তারা আওয়ামী সমর্থিত বিভিন্ন লোকজনের বাসায় ছিলেন। কোন আবাসিক হোটেলে ওঠেননি। আর গোয়েন্দা আবাসিক হোটেলের ওপর নজর রাখছিল। ফেলে গোয়েন্দারা হামলা ও লোক জড়ো করার বিষয়ে কোন তথ্য পায়নি।
দলটির ‘১৬ জুলাই: মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। সেটি পন্ড করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। কিন্তু এনসিপি আংশিকভাবে কর্মসূচী পালন করেছে। টার্গেট ছিল এনসিপিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তারা গোপালগঞ্জে ঢুকেছে ও সমাবেশ করেছে।
গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু থেকেই চলে নানা অপপ্রচার। বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার ভাঙচুর করবেন-এমন একটি অপপ্রচার মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দেশ-বিদেশ থেকে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অপপ্রচার চালিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জের স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা হয়।
কিন্তু প্রশাসন এগুলোতে নজর দেয়নি। কোন ব্যবস্থাও নেয়নি। ফলে সেখানে সংহিষ ঘটনা ঘটেছে।
অপরদিকে এনসিপি যাতে শরীয়তপুরের জাজিরায় কর্মসূচি পালন করতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগ মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু শুরুতে তাদের হামলা প্রতিরোধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আরও বড় হামলা চালায়।
পৌর পার্কের পাশেই ঐতিহাসিক কোর্ট মসজিদ থেকে উসকানিমূলক ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মাইকে ঘোষণা দিলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসে। ওই সময় মাইকে এও বলা হয়, ‘পুলিশ এবং সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করছে। এতে অনেক লোকজন নিহত হয়েছেন।’ এ ধরনের প্রচারণায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে।
এদিকে আজ শুক্রবারও গোপালগঞ্জে কা্রফিউ থাকবে। তবে সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শিথিল থাকবে। পরে আবার কারফিউ বহাল হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে।
তবে পরস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। শহরের দোকানপাট বন্ধ। মানুষের চলাচলও নেই। তবে এখন গোপালগঞ্জ দিয়ে দুরপ্লালার গাড়িগুলো চলাচল করছে। ট্রেনও চলছে।
